আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

আমরা কমবেশী সবসময় আউটসোর্সিং এর কথা শুনে থাকি। আউটসোসিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি সময় ও পরিশ্রম অপচয় না করে অন্য ব্যক্তি বা কোম্পানির ধারা কাজটি করিয়ে নিতে পারবেন। আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো। 

আউটসোর্সিং কি?  এবং আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কের যদি না জানেন তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। আউটসোর্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত এই লেখাটিতে আলোচনা করা হবে। মনোযোগ দিয়ে লেখাটি পড়ুন। 

আউটসোর্সিং কাকে বলে ?

আউটসোর্সিং একটি ইংরেজী শব্দ এর বাংলা অর্থ হলো বহিঃউৎসায়ন। আউটসোর্সিং দ্বারা বোঝানো হয় কোন ব্যক্তি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ চুক্তির মাধ্যমে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে করিয়ে নেওয়া। সাধারণভাবে আউটসোর্সিং বলতে বুঝায় একটি কাজকে অন্যলোক দ্বারা করিয়ে নেওয়া। 

কোন কাজ চুক্তির মাধ্যমে অন্য লোক দ্বারা করিয়ে নেওয়া কে আউটসোর্সিং বলা হয়। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং এক মনে করি। আউটসোর্সিং  এবং ফ্রিল্যান্সিং সম্পূর্ণ আলাদা পদ্ধতি। আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং কেন আলাদা এ সম্পর্কে নিচে বর্ণনা করা হয়েছে।

আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং কেন আলাদা?

সাধারণত আমরা প্রায় সময়ই আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং এক কাজ ধারণা করি। ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং সম্পূর্ণ আলাদা একটি কর্ম। আউটসোর্সিং বলতে বোঝা যায় একটি কোম্পানী বা ব্যক্তির কোন কাজ অন্য কোম্পানি বা ব্যক্তির সাথে চুক্তি করে তাদের কাছ থেকে কাজটি করিয়ে নেওয়া।

সাধারণত মার্কেটপ্লেসের ভাষায় যাদেরকে বায়ার বলা হয় তারা হল আউটসোর্সার। মার্কেটপ্লেসে সাধারণত দুই ধরণের লোক যায় ১ – আউটসোর্সার ২- ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সার হল যারা এই সকল কাজগুলো সম্পাদন করে। সাধারণত আউটসোর্সার এর কাজগুলো ফ্রিল্যান্সাররা সম্পন্ন করে। 

যারা কাজগুলো প্রধান করে তাদের বলা হয় আউটসোর্সার এবং যেই ব্যক্তি বা কোম্পানিগুলো চুক্তির মাধ্যমে কাজগুলো সম্পন্ন করে তাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। আউটসোর্সার ও ফ্রিল্যান্সার এর মধ্যে অনেক পার্থক্য। 

বহুল ব্যবহৃত আউটসোর্সিং এর কাজ গুলো 

ইন্টারনেট রিলেটেড যেকোনো ধরনের কাজ অন্য ব্যক্তি বা কোম্পানির সাথে চুক্তি করে করিয়ে নেওয়াকে আউটসোর্সিং বলা হয়। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত আউটসোর্সিংয়ের কাজ গুলোর মধ্যে জনপ্রিয় কিছু কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  •  গ্রাফিক্স ডিজাইন
  •  কনটেন্ট রাইটিং
  •  ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট ও ডিজাইন
  • অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ও ডিজাইন
  • ডাটা এন্ট্রি
  • কাস্টমার সাপোর্ট সার্ভিস
  •  ভিডিও অডিও এডিটিং
  • কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সার্ভিস
  • ইঞ্জিনিয়ারিং
  • ট্রেনিং অ্যাডমিশন 
  • সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট
  • হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট 

ইত্যাদি। এছাড়াও আউটসোর্সিং এর বিভিন্ন ধরনের কাজ আছে যেগুলো আপনারা অন্য কোম্পানি বা ব্যক্তির সাথে চুক্তি করে সম্পাদন করে নিতে পারবেন। 

আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা কি?

যে কোন জিনিসের সুবিধা ও অসুবিধা আছে।  ঠিক তেমনি আউটসোর্সিং এর ও সুবিধা অসুবিধা আছে। তবে আউটসোর্সিংয়ের দিক দিয়ে বলতে গেলে অসুবিধার থেকে সুবিধা অনেক বেশি যার ফলে বর্তমান সময়ে আউটসোর্সিং অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিচে আউটসোর্সিং এর কিছু সুবিধা ও অসুবিধা উল্লেখ করা হয়েছে।

আউটসোর্সিং এর সুবিধা।

আউটসোর্সিং এর সুবিধা গুলো হলঃ

  • বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে আপনার কাজ করিয়ে নিতে পারবেন।
  • স্বল্প সময়ে কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ দিতে পারবেন।
  • প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার কারণে কখনও কখনও অল্প মূল্যে কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব।
  • তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ করানো হয় বলে একটি সুন্দর কাজ উপহার পাওয়া সম্ভব।
  • আউটসোর্সিং এর কাজ করার ক্ষেত্রে আপনার আলাদাভাবে কোন অফিস কিংবা রুম নেওয়ার প্রয়োজন নেই, নিজের বাসায় বসে কাজগুলো সম্পাদন করতে পারবেন। 
  • আউটসোর্সিং এর কাজ করার পাশাপাশি আপনি কোন চাকরি বা পড়াশোনা করতে পারবেন কেননা এতে নিদৃষ্ট কোন সময় নেই। আপনার সময় অনুযায়ী আপনি বায়ারের কাজ গুলো করতে পারবেন।
  • কোন বসের হুকুম মানার প্রয়োজন নেই। নিজের স্বাধীনতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন।
  • আউটসোর্সিং এর কাজ করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতি লাভ করা সম্ভব। 
  • কাজের প্রতি ভালো দক্ষতা থাকলে অনেক বড় বড় প্রজেক্টের কাজ করা সম্ভব।
  • আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে দেশের বেকার যুবগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

আউটসোর্সিং এর অসুবিধা।

আউটসোর্সিং কাজে যেমন সুবিধা আছে ঠিক তেমনি অসুবিধাও আছে। আউটসোর্সিং কাজের অসুবিধা গুলো হলঃ

  • সঠিক আউটসোর্সিং কর্মী খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে কাজ করার এর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
  • আউটসোর্সিং কর্মী বিশ্বস্ত না হলে তৃতীয় পক্ষের ধারা আপনার কোম্পানি বা ব্যক্তিত্বও নিরাপত্তা ভঙ্গ হতে পারে।
  • অনেক সময় উন্নত মানের কাজ করানোর জন্য বেশি পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
  • আউটসোর্সিং কর্মী বিভিন্ন দেশের হওয়ায় পেমেন্ট মেথড নিয়ে একটু ঝামেলা হতে পারে। 
  • আউটসোর্সিং এর কাজ করার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ও বৈদ্যুতিক ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারেন।
  • যেহেতু কোন বায়ারের কাছ থেকে আপনি সঠিক সময়ে কাজ পৌঁছে দেওয়ার চুক্তিতে কাজ নিবেন সেহেতু সঠিক সময়ে কাজটি সম্পাদন করতে হবে। 
  • আপনি যদি আউটসোর্সিং কর্মী হন এবং বায়ার যদি বিশ্বাস না হয় সেক্ষেত্রে প্রেমেন্ট নিয়ে ঝামেলা হতে পারে।  তবে আপনি যদি কোন কোম্পানী বা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করেন তাহলে প্রেমেন্ট নিয়ে ঝামেলা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
  • আউটসোর্সিংয়ের কাজ করার জন্য অনেক সময় প্রয়োজন হয় এবং অনেক সময় কম্পিউটারের সামনে কিংবা মোবাইলের সামনে বসে থাকতে হয়। আউটসোসিং এর পিছনে অনেক সময় ব্যয় করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। 
  • ভালোভাবে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং পরিপূর্ণরূপে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। 

আউটসোর্সিং কাজের ক্ষেত্রে যেমন সুবিধা আছে ঠিক তেমনি অসুবিধাও আছে। আপনি যদি আউটসোর্সিং কাজ করতে চান অথবা অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে সুবিধা ও অসুবিধার কথা মাথায় রেখে এগোতে হবে। আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কেও করে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এ সম্পর্কে যদি কিছু জানার থাকে সেক্ষেত্রে কমেন্ট করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ টিকা: মোবাইল দিয়ে ফাইবারে কাজ

Sharing Is Caring:

Leave a Comment