টিকটকে ভাইরাল হওয়ার উপায়

বর্তমান সময়ে শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম গুলোর মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হলো টিকটক। প্রতিদিন টিকটকের ব্যবহারকারী বাড়ার সাথে সাথে টিকটক ভিডিও গুলো ভাইরাল করা অনেকটা কষ্টকর হয়ে গেছে। এই লেখাটিতে আমরা টিকটকে ভাইরাল হওয়ার উপায় এবং টিকটকে ভাইরাল হওয়ার কিছু গোপন ট্রিকস সম্পর্কে আলোচনা করব।

টিকটক ভিডিও কেন করবেন? 

টিকটক হল এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন যার মধ্যে একটি একাউন্ট খুলে যে কেউ ভিডিও আপলোড দিতে পারবে। বর্তমান সময়ে শর্ট ভিডিও প্লাটফর্ম গুলোর মধ্যে টিকটক সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। প্রতিদিন টিকটক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে যার ফলে টিকটক ভিডিও গুলো ভাইরাল করাটাও অনেক কষ্টকর।

আপনি যেকোনো কারণে টিকটক ভিডিও করতে পারেন?  অনেকের টিকটক ভিডিও করে নিজে ভাইরাল হওয়ার জন্য এছাড়াও অনেকে টিকটক ভিডিও করে টাকা ইনকামের জন্য এবং অবসর সময়ে তাকে বিনোদন মূলক কাজে ব্যবহারের জন্য। আপনি যে কোন উদ্দেশ্যে টিকটক ভিডিও তৈরি করতে পারেন। 

টিকটকে ভাইরাল হওয়ার উপায়

টিকটকে ভাইরাল হওয়ার সব থেকে সহজ উপায় হলো ভালো কোয়ালিটির ভিডিও করা এবং ট্রেন্ডিং টপিকে ভিডিও তৈরি করা। এছাড়াও টিকটক ভিডিও ভাইরাল করার কিছু গোপন ট্রিকস আছে যেই ট্রিক্সগুলো এই লেখাটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

টিকটকে ভাইরাল হওয়ার উপায় সম্পর্কে যারা জানতে চেয়েছেন তাদের জন্য এই লেখাটি অনেক উপকারী হবে। আপনি যদি একজন টিকটক ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে কিভাবে টিকটকে ভাইরাল হওয়া যায়।

টিকটক ভিডিও কেন ভাইরাল করবেন

আপনি যদি টিকটক এর মাধ্যমে নিজের পরিচিতি বাড়াতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভিডিওগুলো ভাইরাল করতে হবে। যখন আপনার টিকটক ভিডিও গুলো ভাইরাল হবে তখন আপনার ফলোয়ার অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি পরিচিতি লাভ করবেন।

এছাড়াও যদি আপনার ভিডিওগুলো ভাইরাল না হয় তাহলে কোন ভাবেই টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন না। টিকটক থেকে টাকা ইনকাম এর জন্য বেশি পরিমাণে ফলোয়ার থাকতে হবে। বেশি পরিমাণে ফলোয়ার তৈরি করার একমাত্র উপায় হল টিকটক ভিডিও গুলোকে ভাইরাল করা।

টিকটকে যখন আপনার বেশি পরিমাণে ফলোয়ার থাকবে তখন বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্রান্ড থেকে আপনাকে স্পন্সর করা হবে। এই সকল স্পন্সরের মাধ্যমে আপনারা টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এবং আপনি যখন টিকটকএ অনেক বেশি পরিচিতি লাভ করবেন তখন আপনার ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে ফলোয়ার বৃদ্ধি পাবে পরবর্তীতে ফেসবুক অথবা ইউটিউব থেকেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

টিকটকে ভাইরাল হওয়ার কিছু গোপন ট্রিকস 

আপনি যদি একজন টিকটক ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন এবং আপনি যদি টিকটকে ভাইরাল হতে চান অথবা আপনার ভিডিওগুলো কে ভাইরাল করতে চান তাহলে আপনার এই টিপসগুলো জানা অবশ্যই দরকার। 

একজন টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর এর পরের ধাপে যাবার জন্য অবশ্যই টিকটক ভিডিও গুলো কে ভাইরাল করা দরকার। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন ভাবে রিচার্জ করে এই টিপস গুলো বের করেছি। যদি আপনি সঠিকভাবে এই টিপসগুলো আপনার ভিডিওতে প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে ১০০% আপনার ভিডিওগুলো ভাইরাল হবে। 

ভালো কোয়ালিটির ভিডিও তৈরি করা 

টিকটকের ভিডিও ভাইরাল করার ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো কোয়ালিটির ভিডিও তৈরি করা। টিকটকে ভাইরাল হওয়ার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে সর্বপ্রথম এই টপিকটা আসবে। আপনাকে টিকটকএ সব সময় ভালো কোয়ালিটির ভিডিও আপলোড দিতে হবে।

ভালো কোয়ালিটির ভিডিও বলতে বোঝানো হয়েছে, ভিডিও রেজুলেশন ভালো থাকতে হবে এবং ভিডিওতে অবশ্যই ভাল কনটেন্ট রাখতে হবে। আপনি এমন টপিক নিয়ে ভিডিও তৈরি করবেন যা দর্শকদের উপকারে আসবে এবং তারা বিরক্ত হবে না।

এছাড়াও যদি আপনারা বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করেন সেক্ষেত্রে দর্শকদের সুস্থ বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যখন দর্শকরা আপনার ভিডিওগুলো পছন্দ করবে তখন আপনার ভিডিওতে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবে এবং আপনার একাউন্ট ফলো করবে। 

ট্রেন্ডিং টপিকে ভিডিও তৈরি করা 

টিকটকের ভিডিও ভাইরাল করার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রেন্ডিং টপিক। আপনি যদি ট্রেন্ডিং টপিকে ভালো কোয়ালিটির ভিডিও তৈরি করতে পারেন তাহলে আশা করি দ্রুত আপনার ভিডিওগুলো ভাইরাল হবে। টিকটকএ ভাইরাল হওয়ার সবথেকে কার্যকরী একটি উপায় হলো ট্রেন্ডিং টপিকএ ভিডিও তৈরি।

কেননা ওই টাইমে দর্শকরা ওই টপিকটা নিয়ে বেশি যাচাই করে। তখন যদি আপনার ভিডিওটা তাদের পছন্দ হয় তাহলে ভিডিওতে লাইক কমেন্ট করবে এবং আপনার ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে।

সাউন্ড কোয়ালিটি এবং কপিরাইট কনটেন্ট থেকে দূরে থাকা 

টিকটক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি টিপস হলো ভিডিওর সাউন্ড কোয়ালিটি সবসময় ভালো কোয়ালিটির হতে হবে যাতে দর্শকরা বিরক্ত বোধ না করে।  যথাসম্ভব টিকটক ভিডিওর সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো করার চেষ্টা করতে হবে।এবং কপিরাইট কনটেন্ট বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে অন্য কারো ভিডিও চুরি করে আপলোড না করা। 

অন্য কোথাও থেকে ভিডিও ডাউনলোড করে যদি আপনারা অ্যাকাউন্টে আপলোড করেন তাহলে আপনাদের টিকটক একাউন্ট এর রিস কমে যাবে এবং ভিডিও গুলো ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে। সব সময় নিজের ভিডিও টিকটকএ আপলোড করার চেষ্টা করতে হবে। 

কারেন্ট ইভেন্টগুলো কাভার করা 

টিকটকের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট বা স্টিকার দিয়ে থাকে, এই সকল ইভেন্টে আপনাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। যদি আপনারা ইভেন্টগুলো ফলো করে ভিডিও তৈরি করে তাহলে এখান থেকে রিওয়ার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং ইভেন্ট এর ভিডিও গুলো সব থেকে বেশি ভাইরাল হয়। তাই সবসময় টিকটকের ইভেন্টগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং এই ইভেন্টগুলো অনুযায়ী ভিডিও তৈরি করতে হবে। 

ভিডিওতে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার 

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো হ্যাশট্যাগ। আমরা যখন একটি ভিডিও তৈরি করে ভিডিওটা আপলোড করতে যাই তখন টাইটেল বক্সে আমাদের কিছু ভাইরাল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করতে হবে।  হ্যাশট্যাগ এর উপকারিতা হলো ভিডিও সার্চ রেজাল্টে বেশি নিয়ে আসবে।

অনেক সময় টিকটক নিজে থেকে অনেক হ্যাশট্যাগ দেয় এগুলো ইভেন্ট এর মধ্যে পেয়ে যাবেন। এই হ্যাশট্যাগ গুলো ব্যবহার করতে পারেন অথবা ভাইরাল টপিক এর উপরে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। এবং ভিডিওতে সব সময়  #BdTiktok #Foryou #ViralVideo #TrandingVideo ইত্যাদি এই সকল হ্যাশট্যাগ গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

ডুয়েট ভিডিও তৈরি অথবা কলাবরেশন করা 

টিকটক ভিডিও ভাইরাল এর অন্যতম গোপন ট্রিকস হল ডুয়েট ভিডিও করা। আপনারা যদি ভাইরাল ভিডিও গুলোর সাথে ডুয়েট ভিডিও তৈরি করেন তাহলে আপনাদের ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, এই বিষয়টা ট্রাই করে দেখতে পারেন।

এছাড়াও আপনারা আগে থেকে যারা টিকটকএ ভাইরাল আছে তাদের সাথে কলাবরেশন করে একসাথে ভিডিও তৈরি করে আপনার ভিডিওগুলো ভাইরাল করতে পারেন। টিকটকএ ভাইরাল হওয়ার সবথেকে কার্যকরী টিপস হলো এটি, ভাইরাল কোন ব্যক্তির সাথে ভিডিও তৈরি করলে সেই ভিডিও গুলো দ্রুত ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

আরো পড়তে পারেন: টিকটক ভিডিও এডিট করার সফটওয়্যার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *